সিজারের পর যা করলে দ্রুত কাটা জায়গা শুকিয়ে যাবে ১০০%
সিজারের পর একজন মায়ের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রায় ১.৫ থেকে ২ মাস সময় লাগে।
আবার এই সময়টি সবার জন্য এক নাও হতে পারে। দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে
সর্বপ্রথম প্রসূতি মায়ের কাটা জায়গার যত্ন নিতে হবে।
কেননা মনে রাখতে হবে সিজার একটি বড় ধরনের অপারেশন। অনেক সময় নবজাতক শিশুর
যত্ন পাশাপাশি নিজের যত্ন নেওয়াটাকে অনেক মা অবহেলা করে থাকেন। সিজারের পর কাটা
জায়গা কিভাবে যত্ন নিলে দ্রুত সেরে উঠবে সেটা নিয়ে আমি আপনাদের সামনে আলোচনা
করব।
সিজারের পর কাটা জায়গা শুকানোর সূচিপত্রঃ
কাটা জায়গার প্রতি যত্নবান হওয়া
সিজারের কাটা জায়গার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হতে হবে। যদিও আপনার ডাক্তার
হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার পূর্বেই আপনাকে বলে দিয়েছেন কিভাবে যত্ন নিতে হবে।
ডাক্তারের যেই উপদেশগুলো আপনাকে সর্বক্ষণিক অনুসরণ করে চলতে হবে।
- সদা সর্বদা ঢিলেঢালা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে চলতে হবে। বিশেষ করে সুতি কাপড় বেছে নিন।
- অপারেশনের জায়গাটি একদিন পরপর ভায়োডিন দিয়ে ড্রেসিং করুন। মনে রাখতে হবে যে আপনাকে ড্রেসিং করিয়ে দিবে সে যেন ভালোভাবে সাবান অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে তা করে। অন্যথায় তার হাতের জীবাণু কাটা জায়গা ইনফেকশন হতে পারে।
- অপারেশনের পর কিছুদিন গোসল করবেন না। কেননা কাটা জায়গায় পানি থাকলে সেখান থেকে ইনফেকশন হতে পারে। যদি একান্ত গোসলের প্রয়োজন মনে হয় তাহলে কাটা জায়গা ভালো করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে গোসল করতে পারেন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুন
সিজারের অপারেশনের জায়গাটি দ্রুত সরে উঠার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম
নিতে হবে। আপনার শিশুর যত্নের পাশাপাশি আপনাকেও সার্বিকভাবে বিশ্রাম গ্রহণ করতে
হবে। আপনার শিশুকে দেখার জন্য প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা গ্রহণ
করুন।
সিজারের কাঁটা জায়গা শুকনো রাখুন
সিজারের কাটা জায়গা দ্রুত সেরে ওঠার জন্য আপনাকে সেই জায়গাটির প্রতি সদা সর্বদা
খেয়াল রাখতে হবে। যেন কোনভাবেই সেই জায়গাটি ভিজে না থাকে। যদি সেই জায়গাটি
ভিজে থাকে তাহলে সেখান থেকে ইনফেকশন হতে পারে। যখন আপনি গোসল করবেন তখন এই
জায়গাটি ভালোভাবে পলিথিনের মাধ্যমে ঢেকে নিয়ে যেন সেখানে পানি না যায়। যদি কোন
ভাবে সেখানে পানি যাই তাহলে সেটা সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় দিয়ে
মুছে ফেলুন।
সর্বদা শুয়ে বসে না থাকা
অনেকেই সিজার করার পরে সব সময় শুয়ে বসে থাকেন। কিন্তু এমনটি করা ঠিক নয়।
বিশ্রামের পাশাপাশি শরীরকে সচল রাখার জন্য প্রতিনিয়ত হাটাহাটি করতে হবে এতে করে
রক্ত চলাচলে সক্রিয় হয়ে উঠবে।আবার ঘরের যেগুলো টুকিটাকি কাজ রয়েছে সেগুলো করতে
পারেন। তবে অন্তত ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত ভারী কোন ধরনের কাজ করা যাবে না।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
সিজারের অপারেশনের পরে বিভিন্ন কারণে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এজন্য
আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যেন পানির ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।
আবার অনেক সময় সিজারের পর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে এতে করে পেটে চাপ পড়তে
পারে।এক্ষেত্রে পানি নরম পায়খানা করতে সহায়তা করে।
বেল্ট ব্যবহার করা
ফার্মেসির দোকান থেকে ভালো মানের বেল্ট কিনুন। সিজারের পর পেটের কাটা জায়গা কে
সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নরম মোটা বেল্ট ব্যবহার করুন। বেল্ট কিভাবে কতক্ষণ পরে
থাকবেন সে বিষয়ে ডাক্তারের কাছে জেনে নিন। ডাক্তার আপনাকে যেভাবে নির্দেশনা দেন
তা মেনে চলুন।
যে যে খাবার খাবেন
সিজারের অপারেশনের পরে শরীর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি শরীরকে ফিট রাখার জন্য
পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরী। শারীরিকভাবে সুস্থ ও সবল থাকতে হলে অবশ্যই আপনাকে
পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সিজারের পর যে খাবার গুলো খাবেন
- শাক-সবজি
- মাছ (সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন)
- ডিম
- দুধ
- মুরগির মাংস (দেশি মুরগি খাওয়ার চেষ্টা করুন )
ভিটামিন সি যুক্ত খাবার
ভিটামিন সি নতুন টিস্যু ও ক্ষতস্থান সেরে তুলতে সহায়তা করে।অপারেশনের কাটা
জায়গা দ্রুত ভেতর থেকে শুকানোর জন্য ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার থেকে ভিটামিন সি পেয়ে থাকি। বিশেষ করে যে খাবারগুলোতে
সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে সেগুলো হলো-ঃ
- লেবু
- মাল্টা
- পেয়ারা
- টমেটো
- আমলকি
- কামরাঙা
- বাতাবি লেবু
- আমড়া
সেলাই কাটার পর যে মলম ব্যবহার
আপনার চিকিৎসক একটি মলম দিয়ে থাকবেন। যেটা সুতা কাটার পর থেকে ব্যবহার করতে হয়।
মলমটা দিনে দুই অথবা তিনবার বা আপনার চিকিৎসক যেভাবে বলেন সেভাবে মালিশ করতে হবে।
এতে করে আপনার কাটা জায়গাটি দ্রুত শুকিয়ে যাবে।
সিজারের পর যে খাবারগুলো খাওয়া যাবেনা
ভালো খাবারের পাশাপাশি খারাপ খাবার ও রয়েছে। সর্বোপরি আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত
খাবার খেতে হবে এবং কিছু খাবার রয়েছে যে খাবারগুলো পরিত্যাগ করতে হবে আর সে
খাবারগুলো হলো-ঃ
- চা-কফি
- অতিরিক্ত তৈলাক্ত জাতীয় খাবার
- ভাজাপোড়া
- ফাস্টফুড
- অতিরিক্ত ঝাল যুক্ত খাবার
- কোমল পানীয়
- নেশা জাতীয় খাবার
- আ্যলকোহল
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায় যে, সঠিক যত্ন,বিশ্রাম, এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার সিজারের কাটা
জায়গা দ্রুত শুকিয়ে যাবে। আপনি সহজেই স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসতে পারবেন।
যদি কোন কারনে আপনার কাঁটা দাগ না শুকায় তাহলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
সাথে পরামর্শ করুন।

গ্রামীন সেবার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url